মাহমুদউল্লাহর বীরত্বে জিতল বরিশাল


প্রথম তিন ওভারেই তিন ব্যাটসম্যানকে হারানোর পর উইকেটে এসেছিলেন। দাঁড়িয়ে থেকে দেখলেন আরও দুই সতীর্থের ব্যর্থতা। ইনিংসের মাঝপথ পেরিয়েও বরিশাল বুলসের স্কোরটাকে কী ছন্নছাড়াই না লাগছিল! ৬৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা বরিশালকে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ টেনে তুললেন পরিস্থিতির দাবি মেনে খেলা দারুণ এক ইনিংসে। তাঁর ফিফটি, শেষ দিকে সেকুগে প্রসন্ন আর কেভন কুপারের দুটো ঝোড়ো ইনিংস বরিশালকে এনে দিয়েছিল ১৭০ রানের পুঁজি।
ঘরের মাঠে স্বাগতিকদের জয় দেখতে উন্মুখ দর্শকদের শেষ পর্যন্ত হতাশ করেছে চিটাগং ভাইকিংস। এক বল বাকি থাকতে ১৩৭ রানে অলআউট হয়ে ম্যাচ হারল ৩৩ রানে। দারুণ ফর্মে থাকা তামিম আরও একবার ঘরের মাঠের দর্শকদের হতাশ করেছেন ৮ বলে ৬ রানে আউট হয়ে। তিলকরত্নে দিলশান আজ নিজেকে ফিরে পেতে পেতেও শেষ পর্যন্ত পেলেন না। একের পর এক উইকেট পতনের মিছিলে ৭৭ রানে ৬ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ফেলেছিল চট্টগ্রাম। একমাত্র নাঈম ইসলাম প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেছেন ৪০ বলে ৩৮ রানের ইনিংসটায়। মোহাম্মদ আমিরও এদিন ১২ বলে ২০ রানের ইনিংস খেলে বিপর্যয় সামাল দেওয়া চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।
মাহমুদউল্লাহর ইনিংসটা হয়তো মারকুটে ছিল না। কিন্তু ৪৫ বলে ৩টি চার ও এক ছক্কায় খেলা ৫১ রানের ইনিংসে বরিশাল অধিনায়কই এদিন দলকে শুরুর ধাক্কা সামলে উল্টো পাল্টা আঘাত হানার সুযোগ করে দিয়েছেন। প্রথম ১৩ ওভারের মাত্র একটিতেই রান দুই অঙ্কের ঘর পেরিয়েছিল যেখানে, সেখানে বরিশাল আজ শেষ সাত ওভারেই তুলেছে ৯৮ রান। এটাই গড়ে দিয়েছে পার্থক্য।
চার ম্যাচে এটি তৃতীয় জয় বরিশালের। আর পাঁচ ম্যাচে চতুর্থ হারের শিকার হলো তামিমের দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বরিশাল বুলস: ২০ ওভারে ১৭০/৭ (লুইস ৪, রনি ০, মেহেদি ২৮, সাব্বির ০, মাহমুদউল্লাহ ৫১, নাদিফ ৭, প্রসন্ন ৩৬, কুপার ২১*, সামি ৯*; দিলশান ১/৯, আমির ২/২০, শফিউল ১/৩৪, আসিফ ০/১৮, এনামুল জুনিয়র ০/২৬, চিগুম্বুরা ১/৩৮, জিয়াউর ২/২৪)
চিটাগং ভাইকিংস: ১৯.৫ ওভারে ১৩৭ (তামিম ৬, দিলশান ১৯, আকমল ০, এনামুল ১২, নাঈম ৩৮, চিগুম্বুরা ৫, জিয়াউর ১৩, আমির ২০, শফিউল ১২, এনামুল জুনিয়র ৩, আসিফ ০*; সামি ১ /১৯, আল আমিন ২/৩৪, কুপার ৩ /২৮, তাইজুল ১ /২০, প্রসন্ন ০/২৫, মাহমুদউল্লাহ ১/৬)।
ফল: বরিশাল ৩৩ রানে জয়ী। ম্যান অব দ্য ম্যাচ: কেভন কুপার

মন্তব্যসমূহ