‘ভালো’ উইকেট বানানোর যন্ত্রণা বুঝল ভারত


হাশিম আমলা হয়তো এখন আক্ষেপই করছেন—কেন যে আরেকজন বোলার নিলাম না? কেন ইমরান তাহির আজ এত নির্বিষ ছিল...আমলার সবচেয়ে বড় আক্ষেপ তাঁকে নিয়েই—কেন যে তিনি রাহানের ক্যাচটি ফেলে দিলেন!
পিট-অ্যাবটের তোপে একটা সময় ধুঁকতে থাকা ভারত যে একটু ‘ভালো স্বাস্থ্য’ নিয়ে দিনটা শেষ করেছে, তাতে আমলার আক্ষেপ বাড়ারই কথা। একটা সময় ১৩৯ রানেই ৬ উইকেট হারিয়েছিল কোহলিরা, সেখান থেকে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে সিরিজের শেষ টেস্টের প্রথম দিন শেষে তাঁদের স্কোর ৭ উইকেটে ২৩১। ভারতের জন্য যা স্বস্তির, দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য তো সেটি বিরক্তির কারণই হবে। অত ভালো শুরুর পরও দিনটা তাই একটু মলিন মুখেই শেষ করতে হচ্ছে আমলাকে।
মলিন হওয়ার কারণও আছে। ভারতকে দু শ রানের মধ্যে বেঁধে রাখতে পারলে হয়তো মানসিকভাবে একটু এগিয়ে থাকত পারত দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় টেস্ট ভেসে গেছে বৃষ্টিতে, এ ছাড়া বাকি যে দুই টেস্টে প্রোটিয়ারা হেরেছে তার দুটোতেই প্রথম ইনিংসে ভারতের ২০০ পেরোনো স্কোরের কোনো জবাব দিতে পারেনি। এবার পারবে কি না সেই প্রশ্ন ভবিষ্যতের হাতেই তোলা থাক।
অবশ্য এবার দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য একটু স্বস্তির বিষয় হতে পারে দিল্লির পিচ। নাগপুর টেস্টের পিচ নিয়ে তো আর কম শোরগোল হয়নি। খোদ ভারতীয় মিডিয়ারই তোপের মুখে পড়েছিলেন কোহলি। আইসিসির ম্যাচ রিপোর্টেও উঠে এসেছে নাগপুরের পিচ ‘খারাপ’ ছিল। এবার তাই দিল্লিতে একটু ‘ভালো’ পিচ বানিয়েছে ভারত। ভালো বলতে, অন্তত প্রথম দিনেই ধুলো উড়ছে না। খুব বেশি ঘূর্ণি-নাচনও নেই। প্রথম দিন শেষে পাস নম্বরই পাচ্ছে ফিরোজ শাহ কোটলার উইকেট। তবে কোহলি বলতে পারেন, বুঝলেন তো ‘ভালো’ উইকেট বানানোর যন্ত্রণা। তাতে যে ভারতই কোণঠাসা থাকে নিজেদের মাটিতে!
ভারততে শুরুতেই কোণঠাসা করে ফেলার কৃতিত্ব ক্যারিয়ারে মাত্রই দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা পিটের। গত বছরের আগস্টে অভিষেক। এক বছরেরও বেশি সময় পর টেস্ট খেলতে নেমেই নিলেন ৪ উইকেট। তাঁর অফ স্পিনেই ৬২ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারায় ভারত। অ্যাবটের আঘাতে ৪ রান পর পুজারাও ফিরে গেলে বেশ চাপেই পড়ে যায় কোহলির দল।
সেখান থেকেই শুরু হলো ভারতের ফিরে আসার প্রক্রিয়া। আর তাতে নেতৃত্ব দিলেন পাঁচে নামা ব্যাটসম্যান অজিঙ্কা রাহানে। দলের মূল নেতা বিরাট কোহলির সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে তাঁর ৭০ রানের জুটিতে পথ খুঁজে পায় ভারত। জুটি ভাঙতে বিশেষ কিছুরই দরকার হয়ে পড়ছিল। হলোও তাই। পিটের বলে কোহলির যে দুর্দান্ত ক্যাচটি নিলেন উইকেটরক্ষক ডেন ভিলাস, সেটি চোখে লেগে থাকবে অনেক দিন। পিটের বলটিতে স্লগ-সুইপ করতে চেয়েছিলেন কোহলি, ঠিকভাবে ব্যাটেও লেগেছিল। তবে বাউন্ডারির দিকে না গিয়ে সেটি জোরে আঘাত করল শর্ট লেগে দাঁড়ানো টেম্বা বাভুমার পায়ে। উইকেটরক্ষক ভিলাস দ্রুত ঝাঁপিয়ে পড়ে পড়ন্ত বলটি লুফে নেন। ব্যথা পাওয়ারও পরও উদযাপনের হাসি তাই লেগে ছিল বাভুমার মুখে।
এরপর রোহিত শর্মা ও ঋদ্ধিমান সাহা দ্রুত ফিরে গেলেও রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৫৯ রানের জুটি গড়ে ভারতকে দুই শ পার করিয়ে দেন রাহানে। দিন শেষে তিনি অপরাজিত আছেন ৮৯ রানে। এটিই ভারতের মাটিতে রাহানের প্রথম ফিফটি। সেটি প্রথম সেঞ্চুরিতে রূপ নিতে আর ১১ রান দরকার। শুধু ভারতের মা​টিতে রাহানের প্রথম নয়, তা হবে এই সিরিজের প্রথম সেঞ্চুরি!
অবশ্য রাহানেকে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল প্রোটিয়ারা। পিটের বলে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন রাহানে, তবে সেটি মিস করেছেন আমলা নিজেই। এ কারণেই তৃতীয় সেশনটা ভারত দাপটের সঙ্গে শেষ করেছে, হারিয়েছে মাত্র একটি উইকেট। এর আগে প্রথম দুই সেশনে যে ত্রাস ছড়িয়েছিলেন এই টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে দুই পরিবর্তিত খেলোয়াড় পিট ও অ্যাবট। ভারতের সাতটি উইকেটই ভাগাভাগি করে নিয়েছেন এই দুজন। তবে ভারতের পিচে সবচেয়ে বেশি ভালো করার কথা যার, সেই তাহিরই একেবারে নির্বিষ ছিলেন। এমনই যে, পুরো দিনে তাঁকে দিয়ে ৭ ওভারের বেশি বল করানোর আগ্রহ পাননি তাঁর অধিনায়ক।

তবে আমলা তাহিরকে দুষবেন কী করে, রাহানের ক্যাচটা ফেলা নিয়ে অধিনায়ক নিজেই যে নিজের কাঠগড়ায়!

মন্তব্যসমূহ